জাগ্রত চেতনা: দেখি, শুনি, পড়ি, জানি – মননে-বচনে-কর্মে সমাজ জাগরণ
ভিন্ন মত, ভিন্ন পথ, ভিন্ন অভিলাষ
ভিন্ন ভিন্ন বপু-বর্ণ, ভিন্ন ধর্মবাস;
কেউ উঁচু, কেউ খাটো, কেউ মাঝামাঝি
তবু কাছাকাছি রয় যেনো মা আর ঝি।
দর্শনে-দর্শনে ভিন্ন, ভিন্ন সংস্কৃতি
স্বভাবে-স্বভাবে ভিন্ন, বহুধা প্রকৃতি;
কণ্ঠে কণ্ঠে ভিন্ন ভাষা বিচিত্র প্রচুর
বহু ভিন্নতার মাঝে বেঁচে থাকা সুর।
কেউ কম, কেউ বেশি, কত রেষারেষি
কারো বুদ্ধি, কারো শক্তি, কেউ অচেতন;
কারো যুক্তি, কারো ভক্তি, প্রেম কারো কারো
বিভেদের জাল ছিন্ন করো যদি পারো।
এক সূর্য হতে পাই তাপ আর আলো
বৃক্ষ দিল অক্সিজেন জীবন বাঁচালো;
জলের তিয়াসে পৃথকত্ব কিছু নাই
পিয়াসপ্রমাণ সবে ভিন্ন স্বাদ পাই।
বহুত্বের বিশিষ্টতা বহুতে একতা
বাঁচিবার অধিকার রক্ষিয়ে সমতা;
ধর্মগ্রন্থ, দর্শন, শাস্ত্র – যত মতভেদ,
জেনে রেখো এসব অমানুষের খেদ।
বাঁচাবো-বাঁচবো সবে, দেবো-নেবো ভার
এক পুষ্পরাজি হবে সব কণ্ঠহার;
বহু বেদনার তন্ত্রে বহুত্বের বাঁধ
বহুত্বে একত্ব মন্ত্র সচেতন-সাধ।
ক্ষমা, প্রেম, সহিষ্ণুতা, করুণা পাথেয়,
স্নেহ, দয়া, অনুরাগ শুধুই প্রদেয়;
বিভেদের বিষবৃক্ষ করিলে রোপণ,
শুভ-অগ্নিশিখে হোক মূলোৎপাটন।
মাটি থেকে শিখি মহৎ শিক্ষার পাঠ –
সবাকে আশ্রয় দিছে আদিগন্ত মাঠ;
বহুত্বই মানুষের চিরন্তন পরিচয় –
এই সূত্রে বিশ্ব গাঁথা অন্য কিছু নয়।
(বহুত্ববাদের উপর ভিত্তি করে লেখা)