জাগ্রত চেতনা: দেখি, শুনি, পড়ি, জানি – মননে-বচনে-কর্মে সমাজ জাগরণ
যাশোমন্ত রূপে হরি হলেন প্রকাশ।
সফলা নগরে জন্ম ওড়াকান্দি বাস।।
কৈশরেতে গোচারণ রাখালের সনে।
কালসর্প ল'য়ে খেলে প্রফুল্লিত মনে।।
দাঁড়া বলে প্রভু যবে সর্পকে বলিত।
প্রণাম করিয়া এসে নিকটে দাঁড়াত।।
বিশ্বনাথ বলে হরি বল বিবরণ।
কালসর্প তব কথা শুনে কি কারণ।।
প্রভু বলে পূর্বজন্মে আছে দেখা চেনা।
যাহা বলি তাহা ওরা না শুনে পারে না।।
আমি কেলি করিতাম কালিন্দীর কূলে।
উহারা করিত কেলি সেই বিষ জলে।।
কালীয় দমন করি কালিদহে গিয়ে।
মম ঠাই মাথা নত করে সে লাগিয়ে।।
আমি হই পূর্ণব্রহ্ম ক্ষীরোদ বিহারী।
আমার সেবিকা হয় সেই বিষহরী।।
এইভাবে করে খেলা ক্ষীরোদব্ধিশায়ী।
যাহার মহিমা গুণে বলিহারি যাই।।
একদিন বিশ্বনাথ প্রাণে মরেছিল।
শ্রীহরি পরশ মাত্র তার প্রাণ পেল।।
কাদা পথে প্রভু যবে গমন করিত।
পদ নীচে পদ্মফুল ফুটিয়া রহিত।।
কোথায় বা ছিল পদ্ম কোথা হ’তে এলো।
নক্র পৃষ্ঠে চড়ি প্রভু বিল পার হ’ল।।
শ্রীদেবী করুণা তাহা করিল দর্শন।
আজ্ঞামতে একদিন এল দেবগণ।।
একদিন মহাপ্রভু লীলা খেলা ছলে।
রাম রূপ ধরি হীরামনে দেখা দিলে।।
হীরামন মন হরি নিলেন শ্রীহরি।
নব দূর্বাদল শ্যাম রাম রূপ ধরি।।
গোলকের মূর্তি হেরি মাতিল গোলোক।
হরি রূপে মন সপে হৃদয় পুলক।।
দারুব্রহ্ম জগবন্ধু দৈববাণী ছলে।
পাণ্ডা দিয়ে ওড়াকান্দি প্রসাদ পাঠালে।।
রাম শ্রীকৃষ্ণ গৌরাঙ্গ আর শ্রীনিবাস।
এক মুখে সেবা করি পরম উল্লাস।।
শিবনাথ ভবনাথ দুই পাণ্ডা দিয়ে।
প্রভু জন্য মিষ্টান্ন দিলেন পাঠাইয়ে।।
দিগ্বিজয় পণ্ডিত অদ্বৈত নাম ধারী।
পূর্বজন্মে ছিল যেই কেশব কাশ্মীরী।।
প্রভু ঠাই পরাজয় করিয়ে স্বীকার।
কিছুদিন অন্তে গেল আপনার ঘর।।
বিশ্বমাঝে জানাইল সেই মহামতি।
হরিচাঁদ রূপে এল শ্রীভারতী পতি।।
অনন্ত ক্ষীরোদশায়ী জগৎ ঈশ্বর।
কৃপা মাগি এবে আমি দীন হরিবর।।
---- শ্রী হরিবর সরকার