আমি কি দেখলাম সুরধনীর পুলিনে
জাগ্রত চেতনা: দেখি, শুনি, পড়ি, জানি – মননে-বচনে-কর্মে সমাজ জাগরণ
আমি কি দেখলাম সুরধনীর পুলিনে
৪৩ নং গানঃ তাল-ঢিমে তেওট
আমি কি দেখলাম সুরধনীর পুলিনে
দেখে বরণ লাল ভাবলেম শচীর দুলাল
শেষে মন ডুবিল ষড়ভুজ সুদর্শনে।।
দেখলেম অপরূপ রূপ ভুবনে নাই সে রূপের স্বরূপ
রূপাভিমানীর মন ডুবে রূপের কিরণে।।
তাল-যৎ
এমন রূপ আর দেখি নাই ওগো ভাই,
দেখবি যদি গুণনিধি আয় আয়।
সে যে তিনে এক একে তিন, ক্ষ্যাত কালো গৌরাঙ্গ কায়।।
দুইখানি হাত মেঘের বরণ, দুইখানি হাত চাঁদের কিরণ,
হায়রে আরও দুইখানি হাত কাল বরণময় রে
করে করে কড়া দণ্ড বান, বাঁশি ধনুর্দ্দণ্ড কি শোভা পায়।।
হল যেন কি ধন হারা, তাইতে করে আরাধনা সইরে
আমার কঠিন হৃদয় তাইতে এত সইরে সইরে
দেখলেম আ রা রা সাগরের মাঝে, একবার ভাসে একবার তলায়।।
ত্রেতায় রাম জগতের কর্তা, হ’ল জনকের জামাতা সইরে
আমার মনে বলে তারই হস্ত অই রে
যদি জনকের জামাতা হত, রাখতেম তুলে আমার হৃদয়।।
তাল-ঠুংরী
দেখলেম বিনোদ বিনোদ মাখা ও বিনোদিনী
করে বিনোদ বাঁশি, বিনোদ হাসি, বিনোদ বিনোদ চাহনি।
বিনোদ হস্ত, বিনোদ বক্ষ, বিনোদ পদ কক্ষ, বিনোদ মুখখানি।
দেখে বিনোদ উরু, বিনোদ ভুরু, ভোলে বিনোদ রমণী।
বিনোদ নয়ন, বিনোদ চরণ, বিনোদ বয়ান, বিনোদ বরণ, বিনোদ তার ধ্বনি
অতি বিনোদ ভঙ্গী, বিনোদ অঙ্গী, দেখসে বিনোদ রঙ্গিণী।।
বিনোদ ধনী আরাধনা, বিনোদ চক্ষে বিনোদ ধারা, ঠিক সুরধনী
মত্ত বিনোদ, নামে বিনোদ, প্রেমের বিনোদ, বিনোদ গাঁথনী।।
মিল-তাল-ঢিমে তেওট
দেখে বিনোদের মুখ বিদরিয়া যায় বুক
হরির দুর্দশা দূরে যাবে কত দিনে।।