দেবীর ব্রহ্মা আরাধনা
জাগ্রত চেতনা: দেখি, শুনি, পড়ি, জানি – মননে-বচনে-কর্মে সমাজ জাগরণ
দেবীর ব্রহ্মা আরাধনা
বিষ্ণুর সাধনে দেবী হইলা নিষ্ফল।
বিষন্ন বদনে দেবী আঁখি ছল ছল।।
ব্রহ্মাদেবে ডাকিবারে মন উচাটন।
বলে কোথা ব্রহ্মদেব দাও দরশন।।
মনের বেদনা জেনে এস দয়াময়।
আমাকে করহ দয়া আসিয়া হেথায়।।
তুমি ব্রহ্মা গুণনিধি সৃষ্টি অধিকারী।
দয়া করে দাও মোরে শ্রী চরণ তরী।।
কি করিব কোথা যাব না দেখি উপায়।
দেখা দিয়ে আজি মোরে রেখ রাঙ্গাপায়।।
তোমার লাগিয়া আমি ভাসি আঁখি জলে।
দেখা দিয়ে প্রাণ রাখ অভাগিনী বলে।।
বহুদিন গত হল ব্রহ্মার লাগিয়া।
থাকিতে না পারে ব্রহ্মা এলেন ছুটিয়া।।
ব্রহ্মা বলে মহামায়া কিসের লাগিয়া।
আমাকে ডাকিলে কেন কহ বিস্তারিয়া।।
এত কেন শোকাতুরা দেখি যে তোমায়।
কিবা তব অভিপ্রায় বলহে আমায়।।
দেবী বলে ওগো নাথ তোমাকে জানাই।
ফেলিওনা ও চরণে এই ভিক্ষা চাই।।
মনের বাসনা মম তব শ্রী চরণ।
পত্নী রূপে কর দেব আমাকে গ্রহণ।।
এত যদি বলে দেবী ব্রহ্মার সাক্ষাৎ।
কহিতে লাগিল ব্রহ্মা যোড় করি হাত।।
একি কথা কহ দেবী আমার গোচরে।
মাতৃরূপে হও তুমি বিশ্ব চরাচরে।।
সর্ব্বশক্তি স্বরূপিণী তুমি মূলাধার।
শ্রীমুখের বাক্য তব কর প্রত্যাহার।।
আমাকে করহ ক্ষমা ওগো মহামায়া।
আমার মনের কথা বুঝাবো কি দিয়া।।
এ কথা শুনিয়া দেবী মৌন হয়ে রয়।
বাক্য নাহি সরে মুখে জ্ঞান হারা প্রায়।।
এত বলি ব্রহ্মা দেব হ 'ল অন্তর্ধ্যান।
একাকিনী মহামায়া ভাবে মনে মন।।
মনে মনে ভাবে দেবী হইয়া চঞ্চল।
দ্বিতীয় সাধনা মোর হইল নিস্ফল।।
আর মাত্র আছে এক দেব ত্রিলোচন।
আরবার করে দেখি তাহার সাধন।।
এতবলি মহামায়া তপ আরম্ভিল।
কান্দিয়া বিনোদ বলে হরি হরি বল।।