হরিনাম উৎপত্তি
জাগ্রত চেতনা: দেখি, শুনি, পড়ি, জানি – মননে-বচনে-কর্মে সমাজ জাগরণ
হরিনাম উৎপত্তি
অনাদীর আদি প্রভু নিত্য নিরঞ্জন।
সৃষ্টির লাগিয়া প্রভু ভাবে মনে মন।।
সত্ত্বঃ রজঃ তমঃ এই তিন গুণ দিয়া।
পঞ্চ তত্ত্ব সৃজিলেন জীবের লাগিয়া।।
আকাশের শব্দ গুণ হইল উদয়।
আকাশ হইতে সৃষ্টি বাতাসের হয়।।
বাতাসের দুই গুণ প্রকাশ পাইল।
শব্দ আর স্পর্শ এই দুই গুণ হল।।
বাতাস হইতে পরে অগ্নির সঞ্চার।
আগুনেতে তিন গুণ হইল প্রচার।।
শব্দ স্পর্শ রূপ গুণ আগুনেতে হয়।
আগুন হইতে পরে জলের উদয়।।
জলেতে চারিটি গুণ বর্ত্তিল তথায়।
শব্দ স্পর্শ রূপ রস এই চারি হয়।।
জল হতে মাটি সৃষ্টি পঞ্চ গুণ পায়।
শব্দ স্পর্শ রূপ রস গন্ধেতে বিলায়।।
এই রূপে কত খেলা খেলিলেন তিনি।
আপনি করিয়া সৃষ্টি খেলায় আপনি।।
তাহার সৃষ্টির কথা অপূর্ব্ব কথন।
করিলেন সৃষ্টি প্রভু দেব তিন জন।।
সত্ত্বঃ গুণে বিষ্ণু ব্রহ্ম রজঃ গুণে।
তমঃ গুণে সদা শিব জন্মিল তখনে।।
মহাপ্রভু বলিলেন তাহাদের ঠাঁই।
আমার আদেশ বাণী পালহ সবাই।।
ব্রহ্মা করিবেক সৃষ্টি যত জীবগণ।
পালন করিবে বিষ্ণু শুন দিয়া মন।।
সংহার করিবে শিব এইত আদেশ।
যথা যথা কর্ম্মে সবে করহ নিবেশ।।
যার যার কর্ম্মে সবে গেলেন চলিয়া।
তারপর দেখে প্রভু মনেতে ভাবিয়া।।
মোহ আর মায়া দ্বারা করিলেন সৃষ্টি।
অপূর্ব্ব সে নারী মূর্ত্তি কিবা তার দৃষ্টি।।
মহামায়া বলে প্রভু করি নিবেদন।
আমাকে সৃজিলে প্রভু কিসের কারণ?
মহাপ্রভু বলে দেবী শুনহ বচন।
তোমাকে করিনু সৃষ্টি লীলার কারণ।।
সর্ব্ব শক্তি রূপিণী তুমি মূলাধার।
এ বিশ্ব মাঝারে তুমি হইবে প্রচার।।
ব্রহ্মা বিষ্ণু শিব এই দেব তিনজন।
সৃজন করেছি আমি লীলার কারণ।।
তুমি এর একজনে করিয়া সাধনা।
পতিরূপে যত্ন করি পুরাও বাসনা।।
মহামায়া বলে প্রভু যে আজ্ঞা তোমার।
পালিব তোমার বাক্য প্রতিজ্ঞা আমার।।
এ কথা শুনিয়া প্রভু সন্তুষ্ট হইল।
আশীর্বাদ দিয়ে প্রভু অন্তর্হিত হল।।
চিন্তান্বিত মহামায়া ভাবে মনে মন।
কেমনে পাইব আমি বিষ্ণু দরশন।।
কোথা তুমি বিষ্ণু দেব দেখা দাও মোরে।
আমি বড় অভাগিনী ডাকিহে তোমারে।।
সাধন না জানি প্রভু ভজন না জানি।
কৃপা করে এ দাসীরে রাখহে পরাণী।।
তোমা বিনা এজীবনে কিবা আছে সুখ।
কেমনে হেরিব আমি তব চন্দ্র মুখ।।
তোমার বিরহে আজি জীবন চঞ্চল।
দেখা দিয়ে প্রাণ রাখ তুমি মহাবল।।
এই ভাবে কতদিন গত হয়ে গেল।
অকস্মাৎ বিষ্ণুদেব এসে দেখা দিল।
বিষ্ণুদেব বলে দেবী কিসের লাগিয়া।
আমাকে ডেকেছ কেন কান্দিয়া কান্দিয়া।।
কিবা তব অভিপ্রায় কহ আজি মোরে।
করিব উপায় কব সাধ্য অনুসারে।।
মহামায়া বলে প্রভু করি নিবদন।
আমাকে করহ দয়া দিয়ে শ্রীচরণ।।
তোমার চরণে মোর এই আকিঞ্চন।
পত্নি রূপে আজি মোরে করহ গ্রহণ।।
বিষ্ণু বলে শোন দেবী আমার বচন।
আমা দ্বারা হবে নাকো এ কার্য সাধন।।
তুমি হও মাতৃরূপে সর্ব্ব মূলাধার।
এই কথা তুমি দেবী কর প্রত্যাহার।।
এই কথা বলে বিষ্ণু করিল গমন।
মহামায়া হইলেন বিষন্ন বদন।।
মহামায়া বলে আমি কি করি এখন।
ব্রহ্মা আরাধিতে দেবী করিলেন মন।।