সখীরে ওরে প্রাণসখী দেখসে আয়
জাগ্রত চেতনা: দেখি, শুনি, পড়ি, জানি – মননে-বচনে-কর্মে সমাজ জাগরণ
সখীরে ওরে প্রাণসখী দেখসে আয়
৪৪ নং গানঃ তাল-একতালা
সখীরে ওরে প্রাণসখী দেখসে আয়।।
ষড়ভুজ এক মানুষ এল বিদ্যালয়।।
করে বাঁশি স্বরে মন উদাসী, বিদেশী বলে মনে হয়।
ভাবলেম প্রতিবাসীর কুমার, শেষে বুঝলাম ভ্রম আমার,
সই তার ছয়খানি কর মনোতস্কর।
(সে ত) ভাস্করের গঠিত নয়।।
মুখের কাছে বাঁশি ধরা, সদা করে আরাধারা,
তাইতে স্বর বেরচ্ছে মানুষ ধরা।
সই বাতাস লেগে বাঁশির গায়।।
সদা বলে রাধা রাধা, রাধা নামে বাঁশি সাধা,
বুঝি রাধা নামে আওয়াজ বাধা,
সই শ্রবণে শ্রবণ জুড়ায়।।
মনে অনুমান করি, কে নিয়াছে রাধা হরি,
রাধা উদ্ধারিতে দেশান্তরি,
তাইতে করে ধনুক লয়।।
তাল-যৎ
মনের মানুষ রতন ধরতে, যতন করছে অনিবার।
বদন পূর্ণশশী নাহি হাসি, সদা ধা ধা কার।
নিজের অঙ্গ পানে চেয়ে নয়ন কোণে
ধরে স্বীয় অঙ্গ, করে রঙ্গ, এ কি ব্যবহার।
পড়েছে ধরাতলে, কেবা ধরে তোলে,
বুঝি ক্ষুধানলে, অঙ্গ জ্বলে, নয়নে আশার।
সদা কচ্ছে রোদন, হারা হল ধন,
তার ‘ত সামান্য নয় মনের বেদন, বুক ফাটে আমার।
(চালক)
কোথা হতে মানুষ এল, জগত আলো করে এলো,
লয়ে তার বালাই, মরে যাই ওগো ভাই।
সই তার খঞ্জন গঞ্জন নয়ন গো
ভব রঞ্জন নয়ন অঞ্জন গো।।
হেরে গমন মরাল বারণ গো
দোঁহে বনে যায় জ্বলে যায় জীবন গো।।
শুনে বাঁশি স্বর পিকবর ধিক মানি গো
দুঃখে বনবাসী হ’ল লয়ে অভিমানী গো।
হেরে অধরে অধর হাসি গৌরকায় গো
হয়ে তাড়িত তড়িৎ ও লুকায় কায় গো।
করি অরি হরি হেরি, হরি কটিদেশ গো
করি হরি প্রতি দ্বেষ ছাড়ে নিজ দেশ গো।
মিল-তাল-একতালা
গৌররূপে দিয়ে নয়ন মহানন্দের ভাসে বয়ান,
বলে আয়রে হরা আয়রে তোরা, দেখছে তারক রূপ অক্ষয়।।
------------ হরিবর সরকার