দেবীর শিবের আরাধনা
জাগ্রত চেতনা: দেখি, শুনি, পড়ি, জানি – মননে-বচনে-কর্মে সমাজ জাগরণ
দেবীর শিবের আরাধনা
তুমি হর দিগম্বর আদি দেব মহেশ্বর
সংহার কারণ পঞ্চানন।
তব শ্রীচরণ তরী হৃদয় ধারন করি
ডাকি তোমা ওহে ত্রিলোচন।।
সংকটেতে কর ত্রাণ তোমা বিনে যাবে প্রাণ
দেখা দিয়ে রাখ এ জীবন।
এসে দেখা দিয়ে মোরে মন দুঃখ দাও দূরে
চরণেতে এই নিবেদন।।
মন দুঃখ কই কারে তোমা বিনে এ সংসারে
তোমা বিনা অন্য গতি নাই।
তুমি অগতির গতি না জানি তোমার স্তুতি
নিজগুণে পদে দিও ঠাঁই।।
প্রভুর আদেশ নিয়ে কত কষ্টে আরাধিয়ে
সাধনায় এল দুইজন।
তারা করে নিষ্ঠুরতা বুঝিলনা মন ব্যথা
চলি গেল নিজ নিকেতন।।
তুমি যদি না আসিবে অভাগীর কিবা হবে
তোমা বিনে কি হবে উপায়।
দেখা যদি নাহি পাই এ জীবনে কাজ নাই
এ জীবন ত্যাজিব নিশ্চয়।।
এইভাবে দিবারাতি করে কত স্তব স্তুতি
দিবা - নিশি শয়নে স্বপনে।
স্তব করে মহামায়া নয়ন জলে ভাসিয়া
সাধনা করিছে একাসনে।।
এত যদি ডাকে দেবী শিব তবে মনে ভাবি
দেখা দিল আসিয়া ত্বরায়।
শিব বলে ওগো সতী কেন তুমি কর স্তুতি
মন কথা কহত আমায়।।
মহামায়া বলে বাণী শুন ওহে শূলপাণি
শ্রীচরণে করি নিবেদন।
ঘুচাইয়া মন ব্যাথা চিত্ত কর পবিত্রতা
পত্নী রূপে করিয়া গ্রহণ।।
এ জীবনে পাব শান্তি দূরে যাবে মন ভ্রান্তি
মতি গতি তোমার চরণে।
নিজগুণে কর দয়া দিয়ে তব পদ ছায়া
সুখী কর মধুর বচনে।।
শিব বলে ওগো দেবী তোমার চরণ ভাবি
দিবানিশি আমি করি ধ্যান।
সর্ব্ব শক্তি সরূপিনী তুমি মম কুণ্ডলিনী
তোমাকে করেছি মাতৃজ্ঞান।।
কহিওনা আর মোরে ধ্যান কর অন্যস্তরে
আমা দ্বারা সম্ভব না হয়।
মনেতে দিওনা ব্যাথা ফিরাইয়া লহ কথা
পত্নীরূপে মনেতে না চায়।।
এত বলি সদানন্দ মনে হয়ে নিরানন্দ
চলি যায় সরোবর তীরে।
তথা গিয়ে করে ধ্যান হারাইয়া বাহ্য জ্ঞান
মহামায়া ভাসে আঁখিনীরে।।
মহামায়া কেন্দে বলে কোথা তুমি কোথা গেলে
দেখে যাও আমারে আসিয়া।
এই ভাবে কান্দে কত ঝরে আঁখি অবিরত
মন দুঃখ মনেতে রাখিয়া।