তোরা দেখসে আসি ব্রজবাসী ব্রজঙ্গনা
জাগ্রত চেতনা: দেখি, শুনি, পড়ি, জানি – মননে-বচনে-কর্মে সমাজ জাগরণ
তোরা দেখসে আসি ব্রজবাসী ব্রজঙ্গনা
৪২ নং গানঃ তাল-রাণেটি
তোরা দেখসে আসি ব্রজবাসী ব্রজঙ্গনা,
এসেছে ঠিক যেন সেই কেলেসোনা।।
রাধা রসে গোরা, এমন পোরা আর দেখবি না।।
তেম্নি গোরার আঁখির ভুরু, তেম্নি রামরম্ভা উরু,
তেম্নি ওর মনচোরা কটি সরু,
যেমন ব্রজে ছিল নন্দ-নন্দন, তেমনি মত অঙ্গ গঠন, কাঁচাসোনা।।
করে ধ্বনি রা-রা-রা-রা, যুগল চক্ষে শত ধারা,
ধা ব’লে অধর হয়ে পড়ে ধারা,
মুখে হা রাই! হা রাই! ধ্বনি, কি ধন হারায়ে ধনীর এ যন্ত্রণা।।
তাল-যৎ
তোরা দেখে যা, দেখে যা সহচরী,
হিংসাদ্বেষ লেশ শূন্য, কলুষী করিতে ধন্য একাচারী।।
ব্রাহ্মণ চণ্ডাল তাঁতি, জোলা মুচি হাড়ি জাতি গো
সবে মিশেছে ব’লেছে হরি গো,
যে জন বলে হরি হরি, নাহি জাতির বিচার করি গো
বললে হরিবোল, দিচ্ছে কোল ধরি গো।।
পূর্বে এই বৃন্দাবনে, কৃষ্ণ কাতর রাধার সনে গো
এল হৃষীকেশ নানা বেশ ধরি গো
রাই রূপেতে গিলটি করা, এল বুঝি মনচোরা গো
সদা কিশোরী কিশোরী স্মরি গো।।
ঐ যে গৌর রূপের মাঝে, কালরূপ অপরূপ সাজে গো
মোহনচূড়া মাথে বাঁশি হাতে করি গো
বুঝি পুনঃ এল বৃন্দাবনে, রাধার কথা মনে পড়ে গো
কাল ভ্রমণ গুঞ্জে, কুঞ্জে নাই কিশোরী গো।।
গানঃ (চালক)
মোহন মূরতি শোভা, রতি পতি মতি শোভা
তোরা শুনে যা, দেখে যা কুলজা গো।।
যেন তরুণ অরুণ বরণ গো
কিবা স্মরণ বরণ কিরণ গো।
করে করঙ্গ গৌরাঙ্গ করে রঙ্গ
সখী কে হ’ল গৌরাঙ্গের বৈরংগ।
রাধা প্রেমে তোর কৌপীন ডোর পরনে গো
ভয় নাই মরণে চরণে গো।
পেল তাপিনী গোপিনী সুসময় গো
এলো দয়াময় রসময় অসময় গো।
হয় না শমন ভবন গমন গো
রাধার মন শমন দমন গো।।
তাল-রাণেটি
যেন অকলঙ্ক কালশশী, ভূতলে পড়েছে খসি গো
শ্রীহরিচরণ পাবি হরে কর শ্রীচরণ আরাধনা।
-------- হরিবর সরকার