ধন্য কলিকাল ছুটল হরির প্রেম বন্যে
জাগ্রত চেতনা: দেখি, শুনি, পড়ি, জানি – মননে-বচনে-কর্মে সমাজ জাগরণ
ধন্য কলিকাল ছুটল হরির প্রেম বন্যে
১২ নং গানঃ তাল-টিমে তেওট
ধন্য কলিকাল ছুটল হরির প্রেম বন্যে।
যত মান্যমান অপ্রমাণ ছিল মান।
সবে ভেসে যায় সে যে ব্রজকুল কন্যে।।
কুল পাব বলে ত্যজে জাতিকুল, পড়ে অকুলে,
হয়ে প্রাণাকুল হয়ে, গুরুচাঁদ অনুকুল সকলে,
দিচ্ছে কুল অকুল পারের কাণ্ডারী, ব্যাকুল জীবের জন্যে।।
তাল-যৎ
ত্যজে জাতি পুরুষ প্রকৃতি,
স্রোতবতী প্রেম বন্যায় দিচ্ছে ঝাঁপ।
কেহ বা প্রাণনাথ! হা দীননাথ! বলে অম্নি কচ্ছে প্রলাপ।
পাপী তাপী তৃণ মত, ভেসে যাচ্ছে অতি দ্রুত, সলিলে,
স্রোতের ভীষণ বলে, পাষাণ চলে অনুকুলে,
যত দীন দুরাচার, শেওলা আকার,
তরঙ্গে ধুচ্ছে অঙ্গের পাপ।
ঘাতকী পাতকী যারা, পূর্ণ পাপে অঙ্গ জ্বারা,
তারা সবে প্রেমের হিল্লোলে, কল্লোলে করে মহোৎসব,
পড়ে হরি অঙ্গে প্রেম তরঙ্গে, আতঙ্কে পলায় মহাপাপ।।
জগত জুড়ে চলিছে বারি, পাপী তাপী অনিবার-ই
পড়ে তায় জুড়ায় তন্ত্র শরীর কিশোরীর প্রেম ল’য়ে যায়,
হ’য়ে বামন যবন একই জীবন কচ্ছে কৃষ্ণ প্রেমের আলাপ।।
তাল-ঠুংরি
চল তর্ তর্ প্রেম তরঙ্গিণী, হরির আদেশে।
বারি ঝলকে ঝলকে চলে, পলকে যায় বিদেশে।।
না ধরে জল প্রেম সাগরে, তীর অতিক্রম করে, যায় সব প্রদেশে।
স্রোত বয় অবিরাম নাহি বিরাম, কিবা দিবা প্রদোষে।।
যিনি ভাগীরথী ধারা, ধারায় ভেসে যাচ্ছে ধরা, প্রেমের আভাসে।
সম রাজা প্রজা, সিংহ অজা, হরিচাঁদের হরিষে।।
মহানন্দ বলছে কাঁদি, উঠছে তুফান ওড়াকান্দি, আয় তোরা নিসে।
এবার চলিছে তুফান জগত ভেদী, নিঃশ্বাস হুতাস বাতাসে।।
হীরামন পাগল কি ভেবে, ডুবুরী হইয়া ডুবে, প্রেম সাগর রসে,
তুলে মুক্তা মণি সে অমনি মাল নিয়ে বেড়ায় ভেসে।।
গোলকচাঁদ বদনচাঁদ তাঁরা, ডুবিল মুদি নয়ন তারা, অতি ত্বরাসে,
কচ্ছে লোহা সোনা এই দু’জনা পরশ মণির পরশে।।
তারকচাঁদের পূর্ণ তরী, চুনি মণি স্বর্ণ ভরি, রয়েছে বসে,
তবু নদীর মাঝে মণির আশে, একবার যায় একবার আসে।
(মিল তাল ঢিমে তেওট)
বলে মহানন্দ হরে রে কপাল মন্দ,
করলি না যতন রতন কি মিলে সামান্যে।
----------------- হরিবর সরকার